About me

Publisher of

Book or ebook

উৎসাহে মন উৎসুক হয়। আমি সবাইকে উৎসাহ দেই। মন্ত্রে মন মন্তা হয় কিন্তু উৎসাহ পেলে মন অদ্ভুত কাজ করতে পারে। অপয়ারা পরের অপকার করে। কুৎসিতরা কুৎসা পাছন্দ করে। আমি পয়মন্ত হতে চাই সুন্দর। মনে রাখতে হবে সৃজনশীলরা মনকে স্বাধীনতা দেয় এবং মন যখন নতুন কিছু করতে চায় তখন মনোযোগ দিয়ে কাজ করে।


"লেখালেখি নিয়ে চিন্তা করলে মাথায় খিলি মারে,

মগজে জল্পনা কল্পনা জমলে লিখতেই হয়"



মোহাম্মাদ আব্দুলহাক

জন্মের দিন, সন এবং স্থান


১৯৭১ সালের ছয়ই অক্টোবর রোজ বুধবার, লাউতলি বাড়িতে আমার জন্ম। গ্রামের নাম লামারসুলপুর, থানা জগন্নাথপুর। তখন জেলা সিলেট ছিল এখন সুনামগঞ্জ হয়েছে। আমি হলাম বংশের বড় ছেলে।

তালুকদার বংশীয় হলেও তারতম্য বুঝে বংশাবতংস হতে পারিনি। বংশে বাতি দিয়ে বংশগত পেশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য সুতলির এক মাথা বংশাঙ্কুরে এবং অন্য মাথা বঁড়শিতে বেঁধে বংশিক হওয়া যায় না। বংশানুক্রমিকে বংশানুচরিত এবং বংশমর্যাদা রক্ষা বংশধরের আয়ত্তের বাইরে। ঝাড়ে-বংশে নাশ হতে একটুও সময় লাগে না।


বাবা'র নাম হাজি আব্দুল সাত্তার

মা’র নাম হাজি খাতিবুন নেচা।

মা বাবার সাথে হজ করার আশৈশবের আশা আল্লাহ পূরণ করেছেন।


গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। সুবহানীঘাটের কিশোরীমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে খাসদবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পরিক্ষা দিয়েছি।  দি এইডেড হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণির পর্যন্ত পড়ে নবম শ্রেণিতে উঠার পর ১৯৮৬ এর মার্চ মাসে বাবা আমাদেরকে গ্রেট ব্রিটেনে নিয়ে আসেন। আমি জন্মগত বৃটিশ। বর্তমানে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীনে স্থায়িভাবে বসবাস করছি।


১৯৮৮ এ Sir John Cass's Foundation and Red Coat Church of England Secondary School থেকে GCSE করেছি। Tower Hamlets College এ ভর্তি হলেও লেখাপড়া করিনি। রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেছিলাম।


বাবা আমার জন্য সোনার কলম কিনেছিলেন। সেই কলম হাতে নিয়ে কিছু লিখতে চাইতাম। তখন পাঠ্যপুস্তকের প্রথমপাঠ ছাড়া কিচ্ছু পড়তে পারতাম না। আমার হাতের লেখা Sir John Cass’s স্কুলের দেয়ালে কয়েক বছর টাঙানো ছিল। বাংলার শিক্ষক না আসলে সহাধ্যায়ীদেরকে বাংলা পড়াতাম। লেখালেখির শখ আশৈশবের হলেও ১৯৮৯ এ মনের কথা খাতার পাতায় লিখতে শুরু করেছিলাম। আমি তখন ভাতের কারবারি। হাতে অফুরন্ত সময় ছিল। কালি কলম এবং ডায়েরির শখ ছিল। নতুন নতুন ডায়েরি কিনতাম। আমার এখনও মনে আছে, এক জোড়া কলম কিনেছিলাম বিশ পাউন্ড দিয়ে কিন্তু নিব ভালো ছিলো না। সেই কলমের জন্য জুতসই নিব কিনেছিলাম বিশ পাউন্ড দিয়ে। যেখানে যেতাম সেখান থেকে নতুন ডায়েরি কিনতাম। আমার বয়স তখন এগারো বছর এবং দেশে ছিলাম, যখন স্বপ্নে ডায়েরি পেয়েছিলাম। রেস্টুরেন্টের বাজার করার জন্য Bestway Cash & Carry (Hackney)তে গিয়েছিলাম। Oxford Black n' Red A4 Hardback Casebound Notebook দেখে আমি মাত্রাধিক চিন্তিত হয়ে এক জোড়া কিনেছিলাম। জীবনের প্রথম বাস্তবে দেখলেও ডায়েরি অত্যন্ত পরিচিত ছিল। কোথায় যেন দেখেছিলাম। কয়েকদিন চিন্তা করে নিশ্চিত হয়েছিলাম, কিশোর বয়সের স্বপ্নে লাক্কাতুরা চা বাগানের গুপ্তগুহার numeric keypad এ key type করে দরজা খুলে হীরা মণিমাণিক্য দেখে আমি অবাককণ্ঠে বলেছিলাম, চাইলেও সব নিতে পারব না। তারপর চারপাশে তাকিয়ে খোদাই করা দেয়ালে Black n' Red ডায়েরি দেখে স্বগতোক্তি করেছিলাম, এই ডায়েরির এত দাম গুপ্তগুহার হীরা মণিমাণিক্য কয়েকবার কিনতে পারব। তারপর ডায়েরি বগলদাবা করে বেরিয়ে দৌড়াতে শুরু করলে কেউ পিছন থেকে ডাকছিল এবং আমি রুদ্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছিলাম। 


এক part time waiter আমার লেখা পড়ে হাসাহাসি করলে ব্রিকলেন যেয়ে সংগীতা থেকে সমার্থ শব্দকোষ কিনেছিলাম এবং আঞ্চলিক ভাষায় লেখা কবিতা চলিত ভাষায় রূপান্তর করেছিলাম। ১৯৯২তে বিয়ে করেছিলাম এবং সে বছর কলকাতা থেকে সরল বাংলা অভিধান আনিয়েছিলাম। নাওয়া খাওয়া ছেড়ে খালি লিখতাম। কী লিখতাম জানতাম না। পরে ধীরে ধীরে লেখার বিষয় বদলে এবং কম্পিউটারে লিখতে শুরু করি। I am not computer literate but Self taught graphic designer, illustrator and music composer. I learnt web design from learndirect. At the beginning I was self publishing, now I am a publisher. I publish electronic and printed books. All of my books are available from www.amazon.com and ebooks can be downloaded from my website www.bookorebook.com  গান এবং গজলের ভিডিও  soundcloud.com





কম্পিউটারের সুবাদে অসম্ভব সম্ভব করেছি। এযাবৎ বাংলায় লেখা একটা মহোপন্যাস, ষোলোটা উপন্যাস, একটা ইংলিস উপন্যাস এবং একটা কবিতার বই প্রকাশ করেছি। আমার সকল বইর প্রচ্ছদ আমি নিজে করেছি। বারো শো পৃষ্টার মহোপন্যাস পঁচিশ বছরে শেষ করেছিলাম। জাতে বাংলাদেশি চলিত বাংলা, আঞ্চলিক বাংলা এবং ইংলিসে লেখা। অবলীলা আঞ্চলিক ভাষায় লিখেছি। আমি স্বশিক্ষিত এবং প্রতিভা আল্লাহর দান।


William shakespeare সাহেবের বই হাতে নিলে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার কারণ, বাংলার পণ্ডিত হতে হলে উনার বই ভাষান্তর করতে হতো। আমি অবশ্য কারো লেখা অনুবাদ করিনি এবং প্রয়োজনও হয়নি। কলম হাতে নিয়ে বসলে লিখতে থাকি। কম্পিউটার অন করে একলা একলি শব্দের খেলা খেলি। কলমের মুখো লাগালে সব ভুলে যাই। কম্পিউটার অফ করে জপতপ করি। বেশি কথা বলতে পছন্দ করি না। মনের কথা লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।


মাঝে মাঝে মাঝরাতে কবিতার ভর উঠে এবং শব্দরা আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আত্মিক শান্তির জন্য লেখালেখি করি। আধ্যাত্মিক চিন্তা করলে আত্মা প্রশান্ত হয়। আমি বিশ্বাস করি, সাহিত্য চিন্তার প্রতিবিম্বপাতে সাহিত্যিক ওজোগুণ প্রতিবিম্বিত হয় সাহিত্যিকের ভাব প্রকাশ।


এসব শুনে অনেক হাসাহাসি করে। তাদের সাথে হাসি আর বলি, মাথায় ক্যারা ঢুকে আমার বুদ্ধিতে ঘুণে ধরেছে। তো যাক, যারা মিথ্যা বলে না ওরাও নিজের ভাবে নিজে মোহিত। কে কী ভাবে তা ভেবে আমি আর ভাবুক হতে চাই না।

অস্মদ্দেশীয় উপন্যাস লিখে ঔপন্যাসিক হয়েছি আমি একুশে বিয়ে করে চুয়াল্লিশে নানা হয়েছি। হাবভাবের প্রভাব বিশ্লেষণ কনতে চেয়ে বাল্যবন্ধুকে লেখা চিঠিতে লিখেছিলাম, কবি হয়ে জন্মেছি আমি আজন্মের কাব্যিক।


মোহাম্মাদ আব্দুলহাক।

 
 
 
 


Copyright © All Rights Reserved